Friday, 15 February 2019

অনন্তপ্রেম --- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অনন্তপ্রেম
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি

শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার,
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।

যত শুনি সেই অতীত কাহিনী,
প্রাচীন প্রেমের ব্যথা,
অতি পুরাতন বিরহমিলনকথা,
অসীম অতীতে চাহিতে চাহিতে
দেখা দেয় অবশেষে
কালের তিমিররজনী ভেদিয়া
তোমারি মুরতি এসে,
চিরস্মৃতিময়ী ধ্রুবতারকার বেশে।

আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি
যুগল প্রেমের স্রোতে
অনাদিকালের হৃদয়-উৎস হতে।

আমরা দুজনে করিয়াছি খেলা
কোটি প্রেমিকের মাঝে
বিরহবিধুর নয়নসলিলে,
মিলনমধুর লাজে–
পুরাতন প্রেম নিত্যনূতন সাজে।

আজি সেই চিরদিবসের প্রেম
অবসান লভিয়াছে
রাশি রাশি হয়ে তোমার পায়ের কাছে।
নিখিলের সুখ, নিখিলের দুখ,
নিখিল প্রাণের প্রীতি,
একটি প্রেমের মাঝারে মিশেছে
সকল প্রেমের স্মৃতি–
সকল কালের সকল কবির গীতি।

জনগনমন- অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা

জনগনমন- অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা

জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
পঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মরাঠা দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ
বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গা উচ্ছলজলধিতরঙ্গ
     তব শুভ নামে জাগে,    তব শুভ আশিস মাগে,
                   গাহে তব জয়গাথা।
জনগণমঙ্গলদায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
     জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয়, জয় হে ॥
    
অহরহ তব আহ্বান প্রচারিত, শুনি তব উদার বাণী
হিন্দু বৌদ্ধ শিখ জৈন পারসিক মুসলমান খৃস্টানী
     পূরব পশ্চিম আসে  তব সিংহাসন-পাশে
                   প্রেমহার হয় গাঁথা।
জনগণ-ঐক্য-বিধায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
     জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয়, জয় হে ॥
    
পতন-অভ্যুদয়-বন্ধুর পন্থা, যুগ-যুগ ধাবিত যাত্রী।
হে চিরসারথি, তব রথচক্রে মুখরিত পথ দিনরাত্রি।
     দারুণ বিপ্লব-মাঝে  তব শঙ্খধ্বনি বাজে
                   সঙ্কটদুঃখত্রাতা।
জনগণপথপরিচায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
     জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে॥
    
ঘোরতিমিরঘন নিবিড় নিশীথে পীড়িত মূর্ছিত দেশে
জাগ্রত ছিল তব অবিচল মঙ্গল নতনয়নে অনিমেষে।
     দুঃস্বপ্নে আতঙ্কে   রক্ষা করিলে অঙ্কে
                   স্নেহময়ী তুমি মাতা।
জনগণদুঃখত্রায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
     জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে ॥
    
রাত্রি প্রভাতিল, উদিল রবিচ্ছবি পূর্ব-উদয়গিরিভালে--
গাহে বিহঙ্গম, পুণ্য সমীরণ নবজীবনরস ঢালে।
     তব করুণারুণরাগে   নিদ্রিত ভারত জাগে
                   তব চরণে নত মাথা।
জয় জয় জয় হে, জয় রাজেশ্বর ভারতভাগ্যবিধাতা!
     জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে ॥

Wednesday, 13 February 2019

সামসুর রহমানের কবিতা --- বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে

বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে

বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে নিকানো উঠোনে ঝরে
রোদ , বারান্দায় লাগে জ্যোৎস্নার চন্দন । বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে অন্ধ বাউলের একতারা বাজে। উদার গৈরিক মাঠে, খোলা পথে, উত্তাল নদীর বাঁকে বাঁকে, নদীও নর্তকী হয় ।যখন সকালে নতুন শিক্ষার্থী লেখে তার বাল্যশিক্ষার অক্ষর,কাননে কুসুম কলি ফোটে , গো রাখালের বাঁশি হাওয়াকে বানায় মেঠো সুর , পুকুরে কলস ভাসে ।

বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে চোখে ভেসে ওঠে কত
চেনা ছবি ; মা আমার দোলনা দুলিয়ে কাটছেন
ঘুম পাড়ানিয়া ছড়া কোন সে সুদূরে ; সত্তা তার
আশাবরী , নানী বিষাদ সিন্ধুর স্পন্দে দুলে
দুলে রমজানী সাঁঝে ভাজেন ডালের বড়া , আর
একুশের প্রথম প্রভাত ফেরী-অলৌকিক ভোর ।

ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের কবিতা --- বাংলাটা ঠিক আসে না

বাংলাটা ঠিক আসে না

ছেলে আমার খুব ‘সিরিয়াস’ কথায়-কথায় হাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
ইংলিশে ও ‘রাইমস’ বলে
‘ডিবেট’ করে, পড়াও চলে
আমার ছেলে খুব ‘পজেটিভ’ অলীক স্বপ্নে ভাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।
‘ইংলিশ’ ওর গুলে খাওয়া, ওটাই ‘ফাস্ট’ ল্যাঙ্গুয়েজ
হিন্দি সেকেন্ড, সত্যি বলছি, হিন্দিতে ওর দারুণ তেজ।
কী লাভ বলুন বাংলা প’ড়ে?
বিমান ছেড়ে ঠেলায় চড়ে?
বেঙ্গলি ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ তাই, তেমন ভালোবাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।
বাংলা আবার ভাষা নাকি, নেই কোনও ‘চার্ম’ বেঙ্গলিতে
সহজ-সরল এই কথাটা লজ্জা কীসের মেনে নিতে?
ইংলিশ ভেরি ফ্যান্টাসটিক
হিন্দি সুইট সায়েন্টিফিক
বেঙ্গলি ইজ গ্ল্যামারলেস, ওর ‘প্লেস’ এদের পাশে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।
বাংলা যেন কেমন-কেমন, খুউব দুর্বল প্যানপ্যানে
শুনলে বেশি গা জ্ব’লে যায়, একঘেয়ে আর ঘ্যানঘ্যানে।
কীসের গরব? কীসের আশা?
আর চলে না বাংলা ভাষা
কবে যেন হয় ‘বেঙ্গলি ডে’, ফেব্রুয়ারি মাসে না?
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।
ইংলিশ বেশ বোমবাস্টিং শব্দে ঠাসা দারুণ ভাষা
বেঙ্গলি ইজ ডিসগাস্টিং, ডিসগাস্টিং সর্বনাশা।
এই ভাষাতে দিবানিশি
হয় শুধু ভাই ‘পি.এন.পি.সি’
এই ভাষা তাই হলেও দিশি, সবাই ভালোবাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
বাংলা ভাষা নিয়েই নাকি এংলা-প্যাংলা সবাই মুগ্ধ
বাংলা যাদের মাতৃভাষা, বাংলা যাদের মাতৃদুগ্ধ
মায়ের দুধের বড়ই অভাব
কৌটোর দুধ খাওয়াই স্বভাব
ওই দুধে তেজ-তাকত হয় না, বাংলাও তাই হাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
বিদেশে কী বাংলা চলে? কেউ বোঝে না বাংলা কথা
বাংলা নিয়ে বড়াই করার চেয়েও ভালো নীরবতা।
আজ ইংলিশ বিশ্বভাষা
বাংলা ফিনিশ, নিঃস্ব আশা
বাংলা নিয়ে আজকাল কেউ সুখের স্বর্গে ভাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা।
শেক্সপীয়র, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, শেলী বা কীটস বা বায়রন
ভাষা ওদের কী বলিষ্ঠ, শক্ত-সবল যেন আয়রন
কাজী নজরুল- রবীন্দ্রনাথ
ওদের কাছে তুচ্ছ নেহাত
মাইকেল হেরে বাংলায় ফেরে, আবেগে-উচছ্বাসে না
জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসেনা।

Thursday, 7 February 2019

সুকুমার রায়ের কবিতা - একুশে আইন

একুশে আইন

শিবঠাকুরের আপন দেশে ,

আইন কানুন সর্বনেশে !
কেউ যদি যায় পিছলে পড়ে ,
প্যায়দা এসে পাকরে ধরে ,
কাজির কাছে হয় বিচার --
                                 একুশ টাকা দন্ড তার ।।


সেথায় সন্ধ্যে ছ'টার আগে ,

হাঁচতে হলে টিকিট লাগে --
হাঁচলে পড়ে বিন্ টিকিটে --
দমদমাদম লাগায় পীঠে ,
কোটাল এসে নস্যি ঝাড়ে --
                                     একুশ দফা হাঁচিয়ে মারে ।।


কারুর যদি দাঁতটি নড়ে ,

চারটি টাকা মাশুল ধরে ,
কারুর যদি গোঁফ গজায় ,
একশো টাকা ট্যাক্স চায় ---
খুঁচিয়ে পিঠে গুঁজিয়ে ঘাড় ,
                                   সেলাম ঠোকায় একুশ বার ।।


চলতে গিয়ে কেউ যদি চায় ,

এদিক ওদিক ডাইনে বাঁয় ,
রাজার কাছে খবর ছোটে ,
পল্টনেরা লাফিয়ে ওঠে ,
দুপুর রোদে ঘামিয়ে তায়
                                    একুশ হাতা জল গেলায় ।।


যে সব লোকে পদ্য লেখে ,

তাদের ধরে খাঁচায় রেখে ,
কানের কাছে নানান সুরে ,
নামতা শোনায় একশো উড়ে ,
সামনে রেখে মুদির খাতা ---
                                    হিসেব কষায় একুশ পাতা ।।


হঠাৎ সেথায় রাত দুপুরে ,

নাক ডাকালে ঘুমের ঘোরে ,
অমনি তেড়ে মাথায় ঘষে ,
গোবর গুলে বেতের কষে ,
একুশটি পাক ঘুরিয়ে তাকে 
                                একুশ ঘন্টা ঝুলিয়ে রাখে ।।

Monday, 4 February 2019

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা - বীরপুরুষ

বীরপুরুষ

মনে করো , যেন বিদেশ ঘুরে

মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে ।
তুমি যাচ্ছ , পালকিতে , মা , চ'ড়ে
দরজাদুটো একটুকু ফাঁক করে ,
আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার 'পরে
টগবগিয়ে তোমার পাশে পাশে ।
রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে খুরে
রাঙা ধুলোর মেঘ উড়িয়ে আসে ।।



সন্ধ্যে হল , সূর্য নামে পাটে ,

এলেম যেন জোড়াদিঘির মাঠে ।
ধূধূ করে যেদিক পানে চাই ,
কোনোদিকে জনমানব নাই ,
তুমি যেন আপন মনে তাই
ভয় পেয়েছ --- ভাবছ ' এলেম কোথা ' ?
আমি বলছি , ' ভয় কোরো না মাগো ,
ওই দেখা যায় মরা নদীর সোঁতা । '



চোরকাঁটাতে মাঠ রয়েছে ঢেকে ,

মাঝখানেতে পথ গিয়েছে বেঁকে ।
গরুবাছুর নেইকো কোনোখানে ,
সন্ধ্যে হতেই গেছে গায়ের পানে ,
আমরা কোথায় যাচ্ছি কে তা জানে ---
অন্ধকারে দেখা যায়না ভালো ,
তুমি যেন বললে আমায় ডেকে ,
' দিঘির ধারে ওই যে কিসের আলো ' ?



এমন সময় হাঁরে রে রে রে রে '

ওই যে কারা আসতেছে ডাক ছেড়ে ।
তুমি ভয়ে পালকিতে এক কোনে
ঠাকুর দেবতা স্মরণ করছ মনে ,
বেয়ারাগুলো পাশের কাঁটাবনে
পালকি ছেড়ে কাঁপছে থরোথরো ।
আমি যেন তোমায় বলছি ডেকে ,
' আমি আছি , ভয় কেন মা করো ! '



হাতে লাঠি , মাথায় ঝাঁকড়া চুল ,

কানে তাদের গোঁজা জবার ফুল ।
আমি বলি , ' দাঁড়া , খবরদার !
এক পা কাছে আসিস যদি আর !
এই চেয়ে দেখ্ আমার তলোয়ার
টুকরো করে দেব তোদের সেরে । '
শুনে তারা লম্ফ দিয়ে উঠে
চেঁচিয়ে উঠল ' হারে - রে - রে - রে - রে ' ।



তুমি বললে , ' যাসনে খোকা ওরে । '

আমি বলি , ' দেখো না চুপ করে ' ।
ছুটিয়ে ঘোড়া গেলেম তাদের মাঝে ,
ঢাল তলোয়ার ঝনঝনিয়ে বাজে --
কী ভয়ানক লড়াই হল মা যে
শুনে তোমার গায়ে দেবে কাঁটা
কত লোক যে পালিয়ে গেল ভয়ে ,
কত লোকের মাথা পড়ল কাটা ।



এত লোকের সঙ্গে লড়াই করে

ভাবছ খোকা গেলই বুঝি মরে ।
আমি তখন রক্ত মেখে ঘেমে ,
বলছি এসে , ' লড়াই গেছে থেমে ।'
তুমি শুনে পালকি থেকে নেমে
চুমো খেয়ে নিচ্ছ আমায় কোলে --
বলছ , ' ভাগ্যে খোকা সঙ্গে ছিল !
কী দুর্দশাই হত তা না হলে । '



রোজ কত কী ঘটে যাহা তাহা

এমন কেন সত্যি হয়না , আহা ।
ঠিক যেন এক গল্প হত তবে ,
শুনত যারা অবাক হত সবে ।
দাদা বলত , ' কেমন করে হবে ,
খোকার গায়ে এত কি জোর আছে । '
পাড়ার লোকে সবাই বলত শুনে ,
' ভাগ্যে খোকা ছিল মায়ের কাছে । '

Saturday, 2 February 2019

Banglar Kobita: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা - শিশুর প্রার্থনা

Banglar Kobita: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা - শিশুর প্রার্থনা: শিশুর প্রার্থনা সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি , সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি । আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে , আমি যেন সেই কাজ কর...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা - শিশুর প্রার্থনা

শিশুর প্রার্থনা

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি ,
সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি ।

আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে ,
আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে ।

ভাই বোন সকলেরে যেন ভালোবাসি ,
মোর লাগি ব্যাথা নাহি পায় দাসদাসি ।

ভালো ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা ,
পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা ।

সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে ,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে ।

সাবধানে যেন লোভ সামলিয়া থাকি ,
কিছুতে কাহারে যেন নাহি দিই ফাঁকি ।

ঝগড়া না করি যেন কভু কারো সনে ,
সকালে উঠিয়া এই বলি মনে মনে ।

Friday, 1 February 2019

Banglar Kobita: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা - হাট

Banglar Kobita: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা - হাট: হাট কুমোর-পাড়ার গরুর গাড়ি -- বোঝাই করা কলসি হাঁড়ি । গাড়ি চালায় বংশীবদন , সঙ্গে যে যায় ভাগ্নে মদন । হাট বসেছে শুক্রবারে বক্...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা - হাট

হাট

কুমোর-পাড়ার গরুর গাড়ি --
বোঝাই করা কলসি হাঁড়ি ।
গাড়ি চালায় বংশীবদন ,
সঙ্গে যে যায় ভাগ্নে মদন ।
হাট বসেছে শুক্রবারে
বক্সীগঞ্জে পদ্মাপারে ।
জিনিসপত্র জুটিয়ে এনে
গ্রামেন মানুষ বেচে কেনে ।
উচ্ছে বেগুন পটল মুলো ,
বেতের বোনা ধামা কুলো ,
সর্ষে ছোলা ময়দা আটা ,
শীতের র‌্যাপার নক্সাকাটা ।
ঝাঁঝরি করা বেড়ি হাতা ,
শহর থেকে সস্তা ছাতা ।
কলসি-ভরা এখো গুড়ে
মাছি যত বেড়ায় উড়ে ।
খড়ের আঁটি নৌকো বেয়ে
আনলো ঘাটে চাষির মেয়ে ।
অন্ধ কানাই পথের 'পরে
গান শুনিয়ে ভিক্ষে করে ।
পাড়ার ছেলে স্নানের ঘাটে
জল ছিটিয়ে সাঁতার কাটে ।